N/A
শিক্ষাদান পদ্ধতি
সরকার ঘোষিত শিক্ষানীতি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রণিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষাদান নিশ্চিত করা হয়। প্রতিদিনের পাঠদান, শ্রেণি পরীক্ষা, বাৎসরিক কোর্স, সমাপনী পরীক্ষা এবং নির্বাচনী পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক জ্ঞানর্জন ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিতে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ ও ব্যক্তিগত পাঠোন্নয়নের প্রতি সার্বক্ষণিক লক্ষ্য রাখা হয়।
নিয়ম-শৃঙ্খলা
ছাত্র-ছাত্রীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন প্রকার রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে। ক্লাস চলাকালীন বিশেষ কোন প্রয়োজনে ছাত্র-ছাত্রীদের মাদরাসা প্রাঙ্গন ত্যাগ করতে হলে অধ্যক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ক্লাস চলাকালীন ছুটির ক্ষেত্রে অভিভাবকের লিখিত অনুরোধ/উপস্থিতি অপরিহার্য। উপর্যুক্ত নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠান নির্দেশিত সকল নিয়ম কানুন মেনে চলা প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক।
সাধারণ শৃঙ্খলা
মহৎ ও আদর্শ জীবন গঠনে শৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিম্নোক্ত নিয়ম-শৃঙ্খলা ছাত্র ছাত্রীদের জন্য অবশ্যই পালনীয়:
১. ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী পোশাক পরিধান করতে হবে।
২. ছাত্রদের যথাযথ চুলের কাট থাকতে হবে।
৩. যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী শ্রেণি চলাকালীন বিদ্যালয় ত্যাগ করতে চায়, তবে অবশ্যই অধ্যক্ষ মহোদয়ে। অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে লিখিত আবেদন অথবা অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
৪. পড়ালেখায় অমনোযোগিতা, অবাধ্যতা, মন্দ আচরণ, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন এবং শৃঙ্খলা বহির্ভূত কাজের জন্য ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
৫. প্রাতঃসমাবেশ শুরুর পূর্বেই ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ বাধ্যতামূলক।
৬. শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের অযথা বারান্দায়, বাজারে বা মাঠে ঘোরাফেরা করা নিষেধ। ছুটির পর অনাবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের সুশৃঙ্খলভাবে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে।
৭. নির্ধারিত সময়ে প্রাতঃ সমাবেশে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক
৮. প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাহানি বা সম্পদ নষ্ট করা থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বিরত থাকতে হবে।
৯. আবাসিক ছাত্রদের ছাত্রাবাসের নিয়ম-কানুন পালন পূর্বক নিয়মিত নামায আদায় ও প্রত্যহ ফরজ নামাযের পর খানেকাহ শরীফে মিলাদে অংশ গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
১০. খতমে গাউসিয়া ও গেয়ারভী শরীফে অংশ গ্রহণ করতে হবে।
১১. দেয়ালে বা দরজায় আঁকা-আঁকি বা লেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১২. ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
১৩. বই, খাতা ও শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী ছাড়া অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ব্যাগে রাখা বা বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১৪. বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন, পেন ড্রাইভ, সিডি/ডিভিডি, এমপি থ্রি, ট্যাব, ক্যামেরা এবং অন্যান্য
মূল্যবান সামগ্রী আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১৫. টিফিন ছুটির পর ঘন্টা বাজার সাথে সাথে কোন শিক্ষার্থীকে যেন অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করতে
পরীক্ষা কক্ষে শৃঙ্খলা
ক). প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষের দায়িত্ব প্রাপ্ত পর্যবেক্ষকগণ সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কক্ষের শৃঙ্খলা বিধানের জন্য দায়বদ্ধ থাকবেন।
খ). যদি কক্ষে দুজন পর্যবেক্ষক দায়িত্বে থাকেন একজন হবেন প্রধান পর্যবেক্ষক। দ্বিতীয়জন হবেন পর্যবেক্ষক। পর্যবেক্ষক পরীক্ষা কক্ষে যে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটলে প্রধান পর্যবেক্ষককে অবহিত করবেন এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর ব্যাপারে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
গ). পর্যবেক্ষক বা প্রধান পর্যবেক্ষক পরীক্ষা কক্ষের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর ব্যাপারে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরীক্ষা কমিটির আহবায়ককে অবহিত করবেন।
ঘ). পরীক্ষা কক্ষে একজন শিক্ষার্থীকে নিম্নলিখিত নির্দেশনাবলী অবশ্যই পালন করতে হবে।
১. যদি কোন পরীক্ষার্থী অতিরিক্ত উত্তরপত্র নেয়, তবে ঐ অতিরিক্ত উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম, ক্রমিক নং ও শ্রেণির নাম সাথে সাথে লিখবে।
২. খসড়া করার জন্য কোন পৃথক সীট সরবরাহ করা হবে না বা এই উদ্দেশ্যে বাহির থেকে কোন কাগজ আনাও যাবে না। যদি কোন পরীক্ষার্থীর নিকট এরূপ কাগজপত্র পাওয়া যায় তাহলে তাকে পরীক্ষা হল থেকে বের করে দেয়া হবে। সকল ধরণের সংশ্লিষ্ট লেখালেখি সরবরাহকৃত উত্তরপত্রেই করতে হবে এবং উত্তরপত্রের কোন অংশ ছেঁড়া যাবে না। উত্তরপত্রের প্রতিটি পৃষ্ঠায় উত্তর লিখতে হবে।
৩. প্রশ্নপত্রে কোন ধরণের দাগ দেয়া নিষিদ্ধ।
৪. পরীক্ষার হলে কোন পরীক্ষার্থীর ব্যাপারে যদি এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যা উল্লেখিত বিধি বিধানে নির্ধারিত নেই তবে হলের মধ্যে পর্যবেক্ষক দ্বারা গৃহীত সিদ্ধান্ত সে পরীক্ষার্থী মেনে নিতে বাধ্য থাকবে।
৫. প্রশ্নপত্র সরবরাহের পর থেকে কোন পরীক্ষার্থী এক ঘন্টা অতিবাহিত না হলে পরীক্ষা কক্ষ ত্যাগ করতে পারবে না।
ঙ). যদি উল্লেখিত কোন শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে অথবা শৃঙ্খলা ভঙ্গ জনিত কোন কাজ করার কারণে অভিযুক্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেনে রাখা ভাল
* বিদ্বানের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র। আল হাদিস
* যে বিদ্বান ব্যক্তিকে সম্মান করে সে আমাকেও সম্মান করে। -আল হাদিস
* জ্ঞানের সব শাখার মধ্যে আত্মজ্ঞানই হচ্ছে সবচেয়ে কল্যাণকর। হযরত আলী (রা:)
* জ্ঞানের পূর্ণতা কর্মের মধ্যে। -হযরত আলী (রা.)
* ধন-দৌলত খরচ করলে কমে যায়, কিন্তু জ্ঞান বিতরণ করলে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। -হযরত আলী (রা.)
* তিনটি বস্তুই পরম সম্পদ: ১। বিদ্যা ২। ভদ্রতা ৩। ইবাদত। ইমাম বুখারী (রহ.)
* পরশ্রীকাতর ও লোভী কখনও শান্তি লাভ করে না। -রাবেয়া বসরি (রাঃ)
* পিতার স্নেহ হতে শিক্ষকের কঠোরতা অনেক ভাল। - শেখ সাদি (রহঃ)
* যতই আমরা অধ্যয়ন করি ততই আমরা আমাদের অজ্ঞতাকে আবিষ্কার করি। শেলি
-এরিস্টটল। * পড়াশুনার পদ্ধতিটা কষ্টকর হলেও এর ফল মধুর।
* সব সমস্যার প্রতিকার হচ্ছে ধৈর্য ও চেষ্টা।-প্রুটাস
* সত্য বলার স্বাধীনতা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও শোভন জিনিস।-বেকন
* মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখে তা স্বপ্ন নয়, যে স্বপ্ন মানুষকে ঘুমাতে দেয় না সেটাই স্বপ্ন।
-এ পি জে আব্দুল কালাম।